মাদ্দ (من ) (পাঠ ৩)

সপ্তম শ্রেণি (মাধ্যমিক) - ইসলাম শিক্ষা - কুরআন ও হাদিস শিক্ষা | NCTB BOOK
2.5k

মাদ্দ শব্দের অর্থ দীর্ঘ করা, লম্বা করা। তাজবিদের পরিভাষায় মাদ্দের হরফের ডান দিকের হরকতযুক্ত হরফ লম্বা করে পড়াকে মাদ্দ বলা হয়। যের, যবর ও পেশকে হরকত বলে।

মাদ্দের হরফ মোট তিনটি। যথা- আলিফ, ওয়াও, ইয়া (۱-و-ی)।

এ তিনটি হরফ নিম্নলিখিত অবস্থায় মাদ্দের হরফ হিসেবে উচ্চারিত হয়:

ক.। (আলিফ)-এর পূর্বের হরফে যবর থাকলে।
খ. و (ওয়াও)-এর উপর জযম এবং তার ডান পাশের হরফে পেশ থাকলে। যেমন-بو
গ. (ইয়া)-এর উপর জযম এবং এর ডান পাশের অক্ষরে যের থাকলে।

উপর্যুক্ত তিনটি অবস্থায় -و-। মাদ্দের হরফ হিসেবে গণ্য হয়। ফলে এর পূর্বের অক্ষর একটু দীর্ঘ করে পড়তে হয়।

প্রকারভেদ

মাদ্দ প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
১. মাদ্দে আসলি (মূল মাদ্দ)
২. মাদ্দে ফারঈ (শাখা মাদ্দ)

নিম্নে এ দুটির সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো:

মাদ্দের হরফের ডানে বা পরে জযম বা হামযা কিংবা তাশদিদ না থাকলে তাকে মাদ্দে আসলি বলে। মাদ্দে আসলিকে মাদ্দে তায়িও বলা হয়। এরূপ মাদ্দে এক আলিফ পরিমাণ দীর্ঘ করে পড়তে হয়।

উল্লেখ্য, একটি সোজা আঙ্গুলকে স্বাভাবিকভাবে বাঁকা করে হাতের তালুতে লাগাতে যে সময়ের প্রয়োজন, তাকে এক আলিফ পরিমাণ সময় বলে।

মাদ্দে আসলির উদাহরণ : نُوحِيهَا

এ শব্দটিতে একসাথে মাদ্দে আসলির তিন ধরনের উদাহরণ রয়েছে। যেমন-
ক. এখানে (ওয়াও)-এর উপর জযম এবং তার পূর্বের হরফ (নুন)-এর উপর পেশ (এ) রয়েছে।
খ. এখানে (ইয়া)-এর উপর জযম (এ) এবং এর পূর্বের হরফ (হা)-এর নিচে যের রয়েছে।
গ. এ এখানে। (আলিফ)-এর পূর্বের হরফ ১ (হা)-এর উপর যবর (১) রয়েছে
এ তিনটি ক্ষেত্রেই মাদ্দের হরফ-। এর পূর্বে বা পরে জযম বা, হামযা বা তাশদিদ নেই। সুতরাং এগুলো মাদ্দে আসলি। এরূপ অবস্থায় (নুন, হা, হা) অক্ষরকে এক আলিফ পরিমাণ দীর্ঘ করে পড়তে হবে।
কুরআন মজিদের যে সকল হরফের উপর খাড়া যবর (এ), নিচে খাড়া যের এবং উপরে উল্টো পেশ (এ) রয়েছে, সে সকল হরফকে এক আলিফ পরিমাণ দীর্ঘ করে পড়তে হবে। যেমন-

اله النَّاسِ
لِرَبِّهِ لَكَنُود
مَالُهُ وَمَا كَسَبَ

এখানে (লাম) হরফের উপর খাড়া যবর (হা) হরফের নিচে খাড়া যের (ঘ) এবং (হা) হরফের উপর উল্টো পেশ (এ) রয়েছে। সুতরাং, (লাম, হা, হা) হরফগুলোকে এক আলিফ পরিমাণ দীর্ঘ করে পড়তে হবে।

২. মাদ্দে ফারঈ (শাখা মাদ্দ)

ফারঈ অর্থ শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট। মাদ্দে আসলি থেকে যে সকল মাদ্দ বের হয় তাকে মাদ্দে ফারঈ বলে। অর্থাৎ মাদ্দের হরফের পরে জযম বা হামযা বা তাশদিদ থাকলে সেসব স্থানে দীর্ঘ করে পড়তে হয়। একে মাদ্দে ফারঈ বলে।

উদাহরণ

-এ শব্দে মাদ্দের হরফ-এর পর লাম হরফে জযম হয়েছে। এটি মাদ্দে ফারঈ। অতএব, আমরা এ সথানে হামযাকে লম্বা করে পড়ব।

  • جَاءَ وَمَا أَدْرَكَ - এ উদাহরণ দুটিতে মাদ্দের হরফ আলিফ-এর পর হামযা এসেছে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে জিম ও মীম হরফকে মাদ্দে ফারঈ হিসেবে দীর্ঘ করে পড়তে হবে।
  • . وَلَا الضَّالِّينَ - كَافَّةً - আলোচ্য উদাহরণদ্বয়ে মাদ্দের হরফ আলিফ-এর পর লাম এবং ফা হরফে তাশদিদ হয়েছে। এটি মাদ্দে ফারঈ-এর অন্যতম রূপ। এরূপ ক্ষেত্রেও হরফকে লম্বা করে পড়তে হবে।

উল্লেখ্য, আল-কুরআনের অনেক সস্থানে হরফের উপর এসব মাদ্দের চিহ্ন দেওয়া থাকে। যেমন-হরফের উপর এরূপ চিহ্ন থাকলে সে হরফকে লম্বা করে পড়তে হয়। হরফের উপর (-) চিহ্ন থাকলে চার আলিফ এবং (~) চিহ্ন থাকলে তিন আলিফ পরিমাণ দীর্ঘ করে পড়তে হবে।

দলগত কাজ: মাদ্দের প্রকারভেদের একটি তালিকা তৈরি কর।
বাড়ির কাজ: মাদ্দের নাম ও কোন মাদ্দ কয় আলিফ পরিমাণ দীর্ঘ করে পড়তে হয় তা লেখ।
Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...